শিলিগুড়িতে জেনারেশন অ্যাচিভারের নিবেদন : শতবর্ষে সুকান্ত স্মরণ
Bengal Times News, 4 August 2026
লুতুব আলি, শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির এইচএমএ সেন্টারে গত ২ রা আগস্ট সর্বভারতীয় সংস্থা জেনারেশন অ্যাচিভারের উদ্যোগে আয়োজিত হলো "বন্দে মাতরম মঞ্চে, শতবর্ষের আলোকে সুকান্ত"। অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ছিল না, ছিল দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক অপূর্ব মিলন উৎসব।
অনুষ্ঠানের নান্দনিক সূচনা পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন জেনারেশন অ্যাচিভারের চেয়ারপারসন তথা বিশিষ্ট সংগঠক মানব মুখার্জি। তিনি বলেন, আগামী দিনে জেনারেশন অ্যাচিভার দিল্লি সহ সমগ্র দেশের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেবে। বিশেষ করে দেশের রাজধানী দিল্লিতে এ ধরনের একটি মননশীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমবেত কণ্ঠে "বন্দে মাতরম" সঙ্গীত উচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর নাচ, গান, কবিতা ও যন্ত্রসঙ্গীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা প্রেক্ষাগৃহ।
শতবর্ষ পেরিয়েও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে আমরা আজও স্মরণ করছি তাঁর কলমের আগুনের জন্য। মাত্র ২১ বছরের জীবনে তিনি যে বিদ্রোহ, ক্ষুধা আর মানবতার কথা লিখে গেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। "ছাড়পত্র", "ঘুম নেই" — তাঁর কবিতা আজও তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়। শতবর্ষের এই আলোকবর্তিকাই ছিল গোটা অনুষ্ঠানের মূল প্রেরণা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়, উত্তরবঙ্গের সভাপতি দীপ্তি মুখার্জী, পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, অলোক চক্রবর্তী, অপূর্ব কুমার গাঙ্গুলি, কাকলি পাল, দেবরাজ পাল, রাজদীপ মুখার্জী, কৃষ্ণেন্দু দাস, কুন্তল গুহ, নির্মলেন্দু দাস প্রমুখ।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন একঝাঁক শিল্পী। আবৃত্তি, কবিতা, গান ও নাচে অংশ নেন বানী সিংহ রায়, প্রণতি সাহা, সুমিতা পয়ড়্যা, অনিল চন্দ্র সিকদার, পাপড়ি দত্ত, মিতা সান্যাল কর, সুনন্দা ভাদুড়ী, কৃষ্ণা দাস, আন্তর্জাতিক সাহিত্য দিশারীর প্রাণপুরুষ হিমেন্দু দাস, পল্লবী পাল, ডলি দেব, গোপা দাস, অর্চনা মিত্র, অরিন্দম ঘোষ, উজ্জ্বল কুমার পতি, রঞ্জনা গুহ ভট্টাচার্য, নিমাই হালদার, তাপস দেবনাথ, বলরাম সরকার, শাহানাজ বানু, কৃষ্ণেন্দু সেন, ভারতী পাল, রিয়া পাল, শুভেন্দু দাস, বিভাকর দাশগুপ্ত, নারায়ণ সরকার, মলয় সরকার, সুজন দে, প্রবীর রায়, নেপাল বিশ্বাস, চন্দ্রা ঘোষ, মিঠু ঘোষ, মিনতি দেব, রঞ্জিত সাহা, রাজশ্রী মৈত্র, রামকৃষ্ণ পাল, রিঙ্কু ঘোষ, রীনা দত্ত, শম্পা পাল, শ্রাবণী মিত্র মন্ডল, সুদীপ সাহা, স্বপ্না ব্যানার্জী, সুব্রত দত্ত, সম্পা দত্ত, পাপিয়া বনিক, সোমা ভট্টাচার্য, সৌমেন সেন, সুব্রত চ্যাটার্জী, বকুল সাহা চৌধুরী, কাকলি পাল, স্বপন দাস, শ্রাবণী ব্যানার্জী, মিত্রজিৎ সান্যাল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দদের "বন্দে মাতরম সম্মাননা" প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় "আনন্দমঠ সম্মাননা" ও "ঋষি বঙ্কিম সম্মাননা"।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুপ্রিয়া ঘোষ। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সমাপ্তি ঘটে।



