পূর্ব বর্ধমান জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সম্বর্ধনা জানালো বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন
Bengal Times News, 28 May 2026
জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : পূর্ব বর্ধমান জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন। আমন্ত্রিত বিধায়কদের কর্মব্যস্ততায় সকলে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "বন্দেমাতরম" সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রথমেই বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা এবং কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকনা বসু কে সংবর্ধিত করা হয়। এরপর বর্ধমান দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা, আউসগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি, মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষ সহ বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পিন্টু শাম এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কর্মকর্তাদের সংবর্ধিত করা হয়।
বর্ধমান জেলা রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক এর হঠাৎ করে অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতিতে স্বাগত ভাষণ দেন সংগঠনের সহসভাপতি মণীশ কান্ডেরওয়াল।
পূর্ব বর্ধমান জেলা বরাবরই ধান ও চাল উৎপাদনের জন্য রাজ্যের শীর্ষে। এই ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে এবং জেলার রাইস মিল শিল্পের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশন। ২৭ মে সংগঠনের পক্ষ থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি সম্মেলনী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে চালকল মালিকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্মেলনে শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদী সকলেই।
জেলার সভাপতি এবং বিধায়করা স্পষ্ট জানিয়েছেন বর্ধমানের চালের মান ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছতার সাথে পুরো ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে। 'ধানের গোলা' বর্ধমানের মূল শক্তি হলেন কৃষকরা। তাই সমস্ত ফার্মার বা চাষীদের সাথে নিয়ে, তাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকটি মাথায় রেখে রাইস মিল ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন।
আগের সরকারের সময় সঠিক সদিচ্ছা ও উদ্যোগের অভাবে অনেক রাইস মিল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই বন্ধ মিলগুলোকে কীভাবে নতুন রূপ দেওয়া যায় এবং পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়, তা নিয়ে এখন থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করতে হবে। বর্ধমান শহর তথা গোটা জেলা চালের জন্য দেশজুড়ে বিখ্যাত। সেই সুনাম যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয় এবং আগামী দিনে বর্ধমান জেলা যাতে ধান চাষ ও চাল উৎপাদনে আরও উন্নতি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই একটা সমন্বয় সাধন করে এগিয়ে যেতে হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক অদ্বৈত খাঁ, কোষাধ্যক্ষ কাঞ্চন সোম সহ বংশী শাম, পার্থ নন্দী, কিরণ শঙ্কর মন্ডল, জয়দেব বেতাল, জন্মেঞ্জয় খাঁ, হীরেন পাঁজা, পলাশ সাহানা, কামাল উদ্দিন মন্ডল সহ অন্যান্যরা।








