জামালপুরে অভিষেকের জনসভায় জনসমুদ্র, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভূতনাথ মালিক -কে জয়ী করার আহ্বান
Bengal Times News, 18 April 2026
অতনু হাজরা, জামালপুর : জামালপুরের শিবির মাঠ, তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছেন ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে সভা করতে। পুরো মাঠ থিক থিক করছে লোক। শুধু মানুষের মাথা। আর চলছে জয় বাংলা ধ্বনির গর্জন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাযের নামে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে চলছে জয়ধ্বনি। মেহেমুদ খাঁন ও ভূতনাথ মালিকের নাম ও বাদ নাই। মহল পুরো তৃণমূলময়। এই লোক, এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে ভূতনাথ মালিকের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।মঞ্চে চাঁদের হাট। উপস্থিত সিদ্দীকুল্লা চৌধুরী, রাসবিহারী হালদার, সাংসদ ডা: শর্মিলা সরকার, সুভাষ মন্ডল, স্বরাজ ঘোষ, গার্গী নাহা, মহম্মদ ইসমাইল, নীলা মুন্সী, সন্দীপ বসু, দেবু টুডু, সাহাবুদ্দিন মন্ডল, তারক টুডু, অতনু নায়েক সহ জেলার সব শাখা সংগঠনের সভাপতি, ব্লকের সমস্ত শাখা সংগঠনের সভাপতি, সকল অঞ্চল সভাপতি সহ অন্যান্যরা। আছেন জামালপুরের সকলের প্রিয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ভূতনাথ মালিক ও মধ্যমণি ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার যখন শিবির মাঠে নামলো তখন সাধারণ মানুষের উল্লাস, উৎসাহ, জয়বাংলা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ জয়ধ্বনি দিয়ে পুরো মাঠ মুখরিত করছেন। হাত নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসেন। মঞ্চে আসার পর বক্তব্য রাখেন যাঁর জন্য আজকের এই সভা সেই জামালপুরের ভূমিপুত্র ভূতনাথ মালিক বক্তব্য রাখার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত কর্মী সমর্থক করতালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সারা বাংলায় তৃণমূল সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কী কী উন্নয়ন করেছেন তা তুলে ধরেন। জামালপুরে একের পর এক কী কী উন্নয়ন হয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরেন। পথশ্রী প্রকল্পে কোথায় কোথায় রাস্তা হয়েছে, বাংলার আবাস যোজনায় কত জন মানুষ ঘর পেয়েছেন, কতজন মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন তা তুলে ধরেন এবং এর জন্য একটি টাকাও কেন্দ্র সরকার দেয় না। বাংলার মানুষের জন্য একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন তিনি বাংলার মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন,থাকবেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জামালপুরের প্রার্থী ভূতনাথ মালিককে জেতাবার আবেদন জানান। তিনি বলেন ভূতনাথ অত্যন্ত ভালো ছেলে। ইতিমধ্যেই সে মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে। তাঁকে জেতালে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে সব সময় থাকবেন। তিনি আজকের সভা মঞ্চ থেকে বিজেপিকে একাধিক বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন বিজেপি দীর্ঘ দিন ধরে বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছে তার সত্ত্বেও রাজ্য সরকার রাজ্যের কোনো উন্নয়ন থামিয়ে রাখেন নি। লক্ষ্মী ভান্ডারের টাকা যেমন বাড়িয়েছে তেমনি যুব সাথী প্রকল্পে মানুষ টাকা পেয়েছে। তিনি বলেন দেশের মধ্যে একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রী সহ ইডি,সি বি আই, নির্বাচন কমিশনকে লাগিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি চ্যালেঞ্জ করেন এর পরেও আগামী ৪ তারিখে সারা রাজ্য জুড়ে সবুজ আবির খেলা হবে। তিনি বলেন পূর্ব বর্ধমান জেলায় আবার ১৬ - ০ করতে হবে। পুনরায় তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে তাঁরা নতুন করে আবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর দেবেন, বার্ধক্য ভাতা দেবেন, কৃষির জন্য আলাদা করে কৃষি বাজেট করা হবে। জামালপুরের আলুর চাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন আলুতে আর ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না তিনি কথা দিয়ে যাচ্ছেন। মেহেমুদ খাঁন তাঁকে এবছরের আলুর কথা বলেছেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে যাতে দ্রুত আলুর টাকা চাষীরা পান সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জামালপুর বাসীর জন্য বহুমুখী হিমঘর স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন এখন বিজেপির লোকেরা বাড়ি বাড়ি প্রার্থীকে নিয়ে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেবে তাতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। মমতা ব্যানার্জী কথা দিয়ে কথা রাখেন কিন্তু বিজেপি তা করে না। বিহারে ভোটের আগে টাকা দিয়ে টাকা ফেরত নিচ্ছেন। দিল্লীতে মহিলাদের ২৫০০ হাজার টাকা করে দেবে বলে আজও দেয় নি। তিনি বলেন বিজেপিকে একদম বিসর্জন দিতে হবে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা তৃণমূল ই ভরসা।






