Railway tradition
একটি পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের পথে : ১৭৩ বছরের রেল ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উদযাপন করছে পূর্ব রেল
Bengal Times News, 17 April 2026
বেঙ্গল টাইমস নিউজ, কলকাতা : ১৮৫৩ সালে অধুনা মুম্বাই এর বোরি বন্দর থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম বাষ্পচালিত রেল ইঞ্জিন চলার ঐতিহাসিক মুহূর্ত আজও ইতিহাসে প্রতিধ্বনিত হয়। সেই স্মরণীয় দিনের ১৭৩তম “জন্মবার্ষিকী” উদযাপন করতে গিয়ে পূর্ব রেল প্রচলিত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এসে ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। সমগ্র অঞ্চলজুড়ে এক উচ্চ-উদ্যম পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে এক নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে, যা ১৫ এপ্রিল থেকে মাসব্যাপী স্বচ্ছতা সচেতনতা অভিযানের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৬ এপ্রিল কার্যক্রম বিশেষভাবে কোচ ও ট্র্যাক পরিচ্ছন্নতার উপর কেন্দ্রীভূত ছিল, যা প্রমাণ করে যে অতীতের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর সর্বোত্তম উপায় হল ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর বলেন, “যেদিন ভারতীয় মাটিতে প্রথম রেলের চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল, সেই দিনটি উদযাপন করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে যাত্রীদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করছি”। তিনি আরো বলেন, “এটি শুধুমাত্র অতীতের উদযাপন নয়, বরং আমাদের যাত্রীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।”
মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে এদিনের এই কর্মসূচি পূর্ব রেলের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়, যেখানে সমস্ত প্রিন্সিপাল হেড অফ ডিপার্টমেন্টস, বিভাগীয় প্রধানগণ, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারগণ, বিভাগীয় আধিকারিক এবং প্রতিটি কর্মচারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। বৃহস্পতিবার জেনারেল ম্যানেজার নিজে হাওড়া স্টেশন পরিদর্শন করে ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে গভীর সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেন। এই সময় তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করেন এবং রেলপথে বা ট্রেনের কোচের ভিতরে ময়লা না ফেলার বিষয়ে সচেতন করেন। তিনি যাত্রীদের সবসময় নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার করার অথবা অন-বোর্ড হাউসকিপিং স্টাফ (OBHS)-এর জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন, যারা সরাসরি সিট থেকে ময়লা সংগ্রহ করার জন্য নিয়োজিত। এছাড়াও তিনি যাত্রীদের শৌচাগার ব্যবহারের পর ফ্লাশ ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝান যাতে পরবর্তী যাত্রী সেটি ব্যবহার করতে পারেন এবং বায়ো-টয়লেটে ময়লা না ফেলার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেন, উল্লেখ করেন যে এর জন্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করা উচিত, যাতে সিস্টেমের কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
এই সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ সমগ্র অঞ্চলে প্রতিফলিত হয়, যেখানে এজিএম, পিএইচওডি, এইচওডি, ডিআরএম, এডিআরএম এবং অন্যান্য শাখার আধিকারিকরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। শিয়ালদহ, হাওড়া, মালদা এবং আসানসোল স্টেশনগুলিতে সিনিয়র আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে হাজার হাজার যাত্রীর মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধের বার্তা পৌঁছে দেন। পূর্ব রেলের ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস (ERBS&G), সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক, আরপিএফ এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই সাফল্যের প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এবং ERBS&G-এর রাজ্য সম্পাদক শিবরাম মাজি উল্লেখ করেন যে পরিচ্ছন্ন রেল ব্যবস্থা বজায় রাখা কোনো একদিনের কাজ নয়, বরং এটি প্রতিদিনের প্রয়োজন। তিনি জানান যে রেল প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে যাত্রীদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না। তিনি সকল যাত্রীদের কাছে আন্তরিক আবেদন জানান যে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যখন নাগরিক এবং রেল একসঙ্গে কাজ করে, তখন রেলব্যবস্থা শুধুমাত্র একটি পরিবহন মাধ্যম হয়ে থাকে না, বরং এটি একটি যৌথ বাসস্থান হয়ে ওঠে।




