বর্জ্য থেকে তৈরি 'রাখি’ : বিবিধ সচেতনতার বার্তা দিল স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশন, উৎসাহ দিলেন জেলা শাসক
Bengal Times News, 28 August 2026
বেঙ্গল টাইমস নিউজ, পূর্ব বর্ধমান : নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং পশুপাখির প্রতি সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশন। সংস্থার উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ রাজ্যের প্রায় ২০টি কলেজ এবং বেশ কিছু স্কুলে আয়োজন করা হয় ‘বর্জ্য থেকে রাখি’ তৈরির কর্মশালা। ‘মানুষ হোক, না পশু—ভাতৃত্ব থাকুক অটুট’—এই বার্তাকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ধরনের রাখি। প্রতিটি রাখিতেই লেখা রয়েছে এই মানবিক বার্তা। কর্মশালায় বাড়িতে ব্যবহার করা আধপোড়া দেশলাই কাঠি, পুরনো খবরের কাগজ, ওষুধের প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের দানা ও শস্য এবং ফেলে দেওয়া নানা উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে রাখি।
খণ্ডঘোষের রাসবিহারী ঘোষ মহাবিদ্যালয়, গুসকরা ও পোলবা মহাবিদ্যালয়, বর্ধমান রাজ কলেজ, বি.বি. কলেজ, নদীয়ার তেহট্ট সদানন্দ মহাবিদ্যালয়, বাঁকুড়া জেলার সারদামণি মহিলা মহাবিদ্যাপীঠ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে রাখি তৈরি করেছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে চলা এই কর্মশালায় ইতিমধ্যে কয়েক হাজার রাখি তৈরি হয়েছে। এর বড় একটি অংশ পড়ুয়ারা তাঁদের সিনিয়রদের পরিয়ে ‘অ্যান্টি-র্যাগিং’-এর বার্তা দিচ্ছেন। পাশাপাশি পশুদের প্রতি সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কর্মশালার একটি বিশেষ পর্বে কয়েকটি নির্বাচিত রাখি বর্ধমানের জেলাশাসকের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যাতে জেলা প্রশাসনের কর্মীদের পরিয়ে এই সচেতনতার বার্তা আরও ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
সংগঠনের তরফে প্রধান উদ্যোক্তা সন্দীপন সরকার জানান, “বর্জ্যকে শুধু ফেলে দেওয়ার জিনিস হিসেবে না দেখে তার পুনর্ব্যবহারযোগ্য মূল্য সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করাই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি পশুদের প্রতিও মানুষের সহমর্মিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। আগামী বছরে এই রাখি বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যূনতম মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে এগুলি পৌঁছে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন সচেতনতার বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে, অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীরাও নিজেদের তৈরি সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমে সামান্য হলেও পকেট খরচের টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবে।” উদ্যোক্তাদের মতে, একটি ছোট রাখির মধ্যেই পরিবেশ, পুনর্ব্যবহার, অ্যান্টি-র্যাগিং এবং প্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতার মতো একাধিক সামাজিক বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা, পরিবেশ সচেতনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতারও একটি বাস্তব পাঠ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বর্ধমানে শ্রী রামাশীষ হিন্দি হাই স্কুল, বর্ধমান টাউন স্কুল এবং কলানবগ্রাম নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের বিশেষভাবে তৈরি হাতে বানানো রাখি বিনিময় হয়।




