চার দশক ধরে মানুষের সেবায় অসিত কুমার চ্যাটার্জী
Bengal Times News, 18 August 2026
লুতুব আলি, হাওড়া : পতাকা উঠল, কণ্ঠে দেশাত্মবোধের গান। আর তারপরেই শুরু হল মানবসেবার মহাযজ্ঞ। ভারতের স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে হাওড়ার বালিটিকুরি ওভারব্রিজের সামনে ফের নজির গড়লেন বালিটিকুরি মেনুফ্যাকচার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধার বিশিষ্ট সমাজসেবী অসিত কুমার চ্যাটার্জী।
গত ৩২ বছর ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই তিনি এই দিনটিকে শুধু উৎসব নয়, সেবার দিন হিসেবে পালন করে আসছেন। এদিনও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর উপস্থিত সহাস্রাধিক মানুষকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এই আয়োজন। মানুষের আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।"
কর্মসূচি জুড়ে ছিল একাধিক মানবিক উদ্যোগ। রক্তের আকাল মেটাতে আয়োজিত হল স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। দুস্থ মহিলাদের হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন বস্ত্র। ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ স্লোগানে সবুজায়নের বার্তা দিয়ে বিলি করা হল ২০০টি ফল গাছের চারা। কারণ পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই, তা তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন। ৪টি হাসপাতালের রোগীদের জন্য দেওয়া হল ৮৫০টি ফলের প্যাকেট।
শিক্ষার আলো ছড়াতেও পিছিয়ে নেই অসিতবাবু। দুস্থ কিন্তু মেধাবী কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হল পুরস্কার, আর্থিক সাহায্য এবং পড়াশোনার সামগ্রী। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও তিনি করে থাকেন। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের জন্য রয়েছে ৫০০ টাকা করে মাসিক বৃত্তি। তাঁর একটাই লক্ষ্য - সমাজের প্রান্তিক মানুষদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা।
অসিতবাবুর সমাজসেবা শুধু ১৫ আগস্টেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার মানুষের জন্য অন্ন বিতরণ, ঈদে বস্ত্র বিতরণ, সারা বছর রক্তদান শিবির - সবেতেই তাঁর অবাধ বিচরণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পাশে তিনি।
পূর্ব বর্ধমানের মালডাঙ্গা গ্রামই অসিতবাবুর জন্মভূমি। সেই গ্রামের প্রতিও তাঁর গভীর টান। বিগত ৩৫ বছর ধরে জন্মভূমি মালডাঙ্গাতেও তিনি নিরলসভাবে সমাজসেবা করে চলেছেন। প্রতি সপ্তাহে গ্রামের দুস্থ মানুষদের জন্য বিনামূল্যে রেশন বিতরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সহযোগিতা তাঁর নিয়মিত কাজের অংশ।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্যাসী স্বামী জীবানন্দ মহারাজ। হাওড়ার বিভিন্ন ক্লাবও এই মহতি উদ্যোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিল।



