স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ'র দাবি প্রথম দফায় বিজেপি ১১০ টি আসন পেয়ে গেছে, ৪ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বর্ধমানের সীতাভোগ খাইয়ে মুখ মিষ্টি মুখ করবেন
Bengal Times News, 25 April 2026
অতনু হাজরা, জামালপুর : জামালপুরে বিজেপির প্রার্থী অরুন হালদারের সমর্থনে সভা করতে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু, প্রার্থী অরুন হালদার, চারটি মন্ডলের সভাপতি, মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতি সহ জেলা , রাজ্য ও ব্লকের নেতা নেত্রীরা। অমিত শাহ জি আসার আগে উপস্থিত বক্তারা বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁরা রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা সকলে বলেন ভয় ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিজেপিকে ভোট দিলে জামালপুরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। প্রার্থী অরুন হালদার তাঁর বক্তব্যে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন অনেক অভিনয় হয়েছে আর না।
আগামী ২৯ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খেলা শেষ হয়ে যাবে। বাংলার যুব সমাজের সঙ্গে যে বঞ্চনা করেছেন বাংলার মানুষ তা ভোলেনি। তিনি বলেন, তাঁকে যদি এখান থেকে নির্বাচিত করা হয় তাহলে তিনি জামালপুরে একটি ইলেকট্রিক চুল্লি বানিয়ে দেবেন, মহিন্দরে কালী বাড়ি তৈরী করে দেবেন। এখনো যাঁরা বাড়ি পাননি তাঁদের বাড়ীর ব্যবস্থা করবেন। তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হলে যাঁরা তাঁকে ভোট দিলেন তাঁদের বিধায়ক হবেন আর যাঁরা ভোট দেবেন না তাঁদের বিধায়ক হয়েও কাজ করে যাবেন। সোনার জামালপুর গড়ে দেবেন তিনি।
অমিত শাহ মঞ্চে এলে জয় শ্রী রাম ও ভারত মাতা কী জয় ধ্বনিতে মুখরিত হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে অরুন হালদারকে সামনে এনে তাঁকে ভোটে জেতাবার আবেদন করেন। তিনি বলেন, প্রথম দফা নির্বাচনে বিজেপি ১১০ টি আসন পেয়ে গেছে। ৪ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বর্ধমানের সীতাভোগ খাইয়ে মুখ মিষ্টি মুখ করবো। এই সরকারের যাবার সময় হয়ে গেছে। তিনি বলেন অরুন হালদারকে জেতান বিজেপি তাঁকে বড় নেতা বানাবেন। তিনি বলেন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে বাংলা থেকে সিন্ডিকেটকে বঙ্গোপসাগরের জলে ফেলে দেবেন। তিনি বলেন কেন্দ্র থেকে ঘরের টাকা, শিক্ষার টাকা সহ সব উন্নয়নের টাকা পাঠানো হলেও সেগুলো তৃণমূলের সিন্ডিকেটে চলে যাচ্ছে।
তিনি মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন তাঁদের কোনো ভয় নেই। রাজ্যে বিজেপি সরকার এলেই তাঁদের ভারতের নাগরিক করে নেওয় হবে। তিনি বলেন যতক্ষণ বিজেপি কার্য কর্তা বেঁচে থাকবে ততদিন এখানে বাবরি মসজিদ বানাতে দেবেন না। তিনি মতুয়া সমাজকে তাঁদের প্রাণ বলে উল্লেখ করেন। বাংলার সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশন চালু করবেন, ডি এ মিটিয়ে দেবেন। মহিলাদের একাউন্টে দেবেন। কৃষকদের ফসলের দামের ব্যবস্থা করবেন। বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ও ৩ হাজার করে দেওয়া হবে। সব শেষে অরুন হালদারকে পদ্ম ফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে আবার জেতাবার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের শেষে প্রার্থী তাঁকে একটি দুর্গা মূর্তি উপহার তুলে দেন। চার মন্ডল সভাপতি তাঁকে পদ্মের মালা পরিয়ে দেন। কৃষকদের পক্ষ থেকে আলু উপহার তুলে দেওয়া হয়।




