SCROLL

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বছরে দু'বার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চালু করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। # পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১১ জন পদ্ম সম্মানে ভূষিত # একদিনের ক্রিকেটে পুরুষদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় দলের মেয়েরা # দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী # প্যারিস অলিম্পিকে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন মনু ভাকের # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # ভূমিকম্পের এ্যালার্ট দেবে "ভূদেব" অ্যাপ, আই আই টি'র বিজ্ঞানীদের বিরাট সাফল্য

ফরাসি ‘লিবার্টি ’ থেকে আধুনিক গতিশীলতা : চন্দননগরে প্রধানমন্ত্রী-র ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের পদার্পণ


 

ফরাসি ‘লিবার্টি ’ থেকে আধুনিক গতিশীলতা : চন্দননগরে প্রধানমন্ত্রী-র ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের পদার্পণ


Bengal Times News, 18 February 2026

বেঙ্গল টাইমস নিউজ, কলকাতা : হুগলি নদীর ঢেউয়ের বুকে যখন গোধূলির সূর্য অস্তমিত হয়, ফরাসি অধ‍্যুষিত ভারতের একসময়ের রত্ন চন্দননগর শহরটি তার ফেলে আসা দিনের গল্প শুনিয়ে যায়। শতাব্দীকাল ধরে এই শহরটি আভিজাত্যের এক অনন্য আশ্রয়স্থল, যেখানে ফরাসি ‘লিবার্টি ’ (স্বাধীনতা) এবং বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। এখানকার নয়নাভিরাম স্ট্র্যান্ড, সেক্রেড হার্ট চার্চ এবং মন্দিরের সূক্ষ্ম টেরাকোটা কাজ এক সমৃদ্ধ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। অথচ, হাওড়া ডিভিশনের ব্যস্ততম যাত্রীসাধারণের কাছে এই ঐতিহাসিক শহরের রেল স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে কেবল একটি পুরনো কাঠামো হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল।

     তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনায় ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অধীনে এই ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বারটি নতুন জীবন পাচ্ছে; যেখানে তার ফরাসি নান্দনিকতার সাথে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটছে।

এক ঐতিহাসিক নবনির্মাণ

পূর্ব রেল ৯.৪৮ কোটি টাকা অনুমোদিত ব্যয়ে চন্দননগর স্টেশনের ব্যাপক পুনর্নির্মাণ প্রকল্প শুরু করেছে। এটি কেবল বাহ্যিক ভোলবদল নয়, বরং একটি কাঠামোগত নবজাগরণ। এই প্রকল্পের অধীনে তৈরি হচ্ছে একটি সুবিস্তৃত নতুন স্টেশন ভবন, আধুনিক সার্কুলেটিং এরিয়া এবং ১৫৭৪ বর্গমিটারের বিশাল প্ল্যাটফর্ম শেড। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৩৫০০ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্মের উপরিভাগ সংস্কার করা হচ্ছে এবং একটি মজবুত ফুট ওভার ব্রিজ (FOB) স্থাপন করা হচ্ছে।

‘সিটি-সেন্টার’ হাব

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্টেশনটিকে একটি প্রাণবন্ত ‘সিটি-সেন্টার’ বা শহরের কেন্দ্রে পরিণত করা। যাত্রীরা শীঘ্রই যে সুবিধাগুলো পেতে চলেছেন:

• বিশ্রামাগার: ১৪০ বর্গমিটারের প্রশস্ত লাউঞ্জ এবং ৫০ বর্গমিটারের আধুনিক শৌচাগার ব্লক।

• প্রযুক্তি-নির্ভর ট্রানজিট: এটিভিএম (ATVM), হাই-স্পিড মোবাইল/ল্যাপটপ চার্জার এবং পরিবেশ-সচেতন যাত্রীদের জন্য ইভি (EV) চার্জিং স্টেশন।

• শিল্প ও সংস্কৃতি: স্টেশনের দেওয়ালগুলো ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় ঐতিহ্য এবং এই শহরের বিখ্যাত শিল্পকলাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলবে।

বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পূজা

     বিশ্বখ্যাত জগদ্ধাত্রী পূজা এবং চন্দননগরের সেই অপূর্ব আলোকসজ্জা দেখার জন্য যখন ভারতের প্রতিটি প্রান্ত এবং বিদেশের পর্যটকরা ভিড় জমাবেন, তখন এই আধুনিক স্টেশনটি তাঁদের জন্য একটি আরামদায়ক ও রাজকীয় প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। স্টেশনের এই নতুন ভৌত পরিকাঠামো তাঁদের উৎসবের আনন্দে এক বাড়তি মাত্রা যোগ করবে এবং এই সফরটিকে পুজোর অভিজ্ঞতার মতোই স্মরণীয় করে তুলবে।

অন্তর্ভুক্তিই মূল লক্ষ্য

‘অমৃত ভারত’ দর্শনের মূলে রয়েছে দিব্যাঙ্গ-বান্ধব পরিকাঠামো। স্টেশনে তৈরি হচ্ছে আধুনিক র‍্যাম্প, নিচু উচ্চতার টিকিট কাউন্টার, পিচ্ছিলহীন মেঝে এবং বিশেষ ট্যাকটাইল পথ (Tactile pathways)। দিব্যাঙ্গ-বান্ধব জলের বুথ থেকে শুরু করে ডাবল হ্যান্ডরেল—স্টেশনের প্রতিটি ইঞ্চি এমনভাবে নকশা করা হচ্ছে যাতে কোনো যাত্রীই অসুবিধায় না পরেন।

নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব

    সিসিটিভি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম এবং হলুদ স্ট্রিপ ও থার্মোপ্লাস্টিক লেন মার্কিং দ্বারা চিহ্নিত জরুরি বহির্গমন পথের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও, কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং সৌরশক্তির মতো দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

            ডিজিটাল অভিজ্ঞতাও এক বিশাল স্তরে উন্নীত হচ্ছে। একটি বিশালাকার ভিডিও ওয়াল, একাধিক ট্রেন ইন্ডিকেশন বোর্ড এবং ৪৬টি কোচ গাইডেন্স ডিসপ্লে বোর্ড (CGDB) নিশ্চিত করবে আপনার কোচের অবস্থান ।

বিশ্বমানের ভবিষ্যৎ

চন্দননগরের এই রূপান্তর প্রধানমন্ত্রীর সেই সুদূরপ্রসারী ভাবনারই প্রতিফলন, যা এখন বাস্তবে রূপায়িত হচ্ছে। ভারতীয় রেল কেবল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে না, তারা এক উত্তরাধিকার নির্মাণ করছে। কাজ শেষ হলে চন্দননগর হবে একটি বিশ্বমানের স্টেশন—ফরাসি নান্দনিকতা এবং ভারতীয় প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য সংমিশ্রণ। এটি আর কেবল একটি যাতায়াত বিন্দু থাকবে না, বরং এটি হবে এক উদীয়মান আধুনিক ভারতের প্রতীক, যা তার ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকে দ্রুত ধাবমান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad