Nerve and kidney diseases : Initiative by Manipal Hospital
বর্ধমানে মণিপাল হাসপাতালের উদ্যোগে স্নায়ু ও কিডনি চিকিৎসায় অগ্রগতি বিষয়ক অন্বেষণ
Bengal Times News, 13 December 2025
জগন্নাথ ভৌমিক, পূর্ব বর্ধমান : পূর্ব ভারতে স্নায়ু ও কিডনি সম্পর্কিত রোগ ক্রমশঃ বাড়ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে, পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মণিপাল হাসপাতালস গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ১৩ ডিসেম্বর বর্ধমানে 'অন্বেষণ মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া'-র অধীনে একটি ইন্টারেক্টিভ সচেতনতা সেশন আয়োজন করে। এই সেশনে মণিপাল হাসপাতালস কলকাতার বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। ছিলেন মণিপাল হাসপাতালস এর নিউরোলজি বিভাগের রিজিওনাল হেড (ইস্ট) তথা ডিরেক্টর ও অ্যাডভাইজার ডাঃ জয়ন্ত রায় এবং মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর এর ক্লিনিক্যাল লিড নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ডাঃ অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বর্ধমানের কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান ডাঃ সৌম্য সরকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মণিপাল হাসপাতাল এর ক্লাস্টার মার্কেটিং (ব্র্যান্ডিং) হেড সোমা চক্রবর্তী উপস্থিত চিকিৎসকদের মিডিয়ার সামনে উপস্থাপিত করেন। এই সেশনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কুনাল দে, সিনিয়র অ্যাসোসিয়েটস সন্তোষ ভকত প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে জেলার সেইসব রোগীরাও অংশ নেন যারা বর্তমানে মণিপাল হাসপাতালে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা স্নায়ু ও কিডনি রোগের পরিবর্তিত প্রবণতা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। একই সঙ্গে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর সুস্থতা ও চিকিৎসার ফলাফলে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটাও তাঁরা তুলে ধরেন।
স্নায়ুবিষয়ক উদ্বেগ নিয়ে ডাঃ জয়ন্ত রায় বলেন, "গত দশ বছরে ভারতে স্নায়ুরোগ প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়া এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক সমস্যা। মণিপাল হাসপাতালে আমাদের 'কমপ্রিহেন্সিভ নিউরো টিম'-এ রয়েছেন নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, নিউরো-ইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ, নিউরো-রেডিওলজিস্ট এবং নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞরা-যারা মিলে রোগীকে সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সেবা দেন। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতায় আমাদের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, স্ট্রোক প্রিভেনশন ক্লিনিক, নিউরোভাসকুলার রিসার্চ ইউনিট এবং জরুরি নিউরোলজি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্ক্রিনিং থেকে উন্নত নিউরোইমেজিং ও পুনর্বাসন -সবই সহজলভ্য। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কের সুস্থতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সাহায্য করে।"
কেন এই অন্বেষণ সেই প্রসঙ্গে জানান, 'অন্বেষণ' শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যার অর্থ "অনুসন্ধান ও আবিষ্কার"। এই উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতালের জ্ঞান - বিনিময়, দায়িত্বশীল তথ্যপ্রচার এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে।
কিডনি চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে ডাঃ অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি (MINU)-র মাধ্যমে আমরা জটিল কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডায়ালিসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ সর্বাঙ্গীণ ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা প্রদান করি, যা একটি শক্তিশালী মাল্টিডিসিপ্লিনারি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মণিপাল অর্গান শেয়ারিং অ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট (MOST) প্রোগ্রামের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করে, দেরি কমায় এবং রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো রোগ নির্ণয়-কারণ প্রায় ১৭% কিডনি ফেলিওরের ঘটনা দেরিতে ধরা পড়ে, যখন ক্ষতি ইতিমধ্যেই স্থায়ী হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ফোলা থাকা, প্রস্রাবের ধরণ বদলে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের মতো উপসর্গ অনেকসময় অবহেলিত হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি দাতা এবং গ্রহণকারী উভয়ের মানসিক প্রস্তুতি, নিয়মিত ফলো-আপ, কাউন্সেলিং এবং ওষুধের নিয়ম মেনে চলা দীর্ঘমেয়াদে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সফলতা, আয়ু বৃদ্ধি ও রোগীর উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
সম্মেলনে ৬২ বছর বয়সী ব্রেন স্ট্রোক-জয়ী অভিজিৎ দাস ডঃ জয়ন্ত রায়ের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাধীন থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং মণিপাল হাসপাতাল থেকে পাওয়া চিকিৎসা ও মানসিক ভরসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ৫২ বছর বয়সী গৃহবধূ শাকিলা বানু ডঃ রায়ের তত্ত্বাবধানে মায়াস্থেনিয়া গ্রা ভিস-একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন নিউরোমাসকুলার রোগ, যা পেশির দুর্বলতা সৃষ্টি করে-থেকে সফলভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্তই তাঁকে পুনরায় সুস্থ জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে সহায়তা করেছে এবং তাঁর জীবনমান উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৫৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শেখ আলমগির তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী সুস্থতার গল্প শেয়ার করেন। কয়েক বছর আগে শরীরের নীচের অংশে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পর যখন স্থানীয় চিকিৎসকেরা আশাহত হয়ে পড়েছিলেন, তখন ডাঃ জয়ন্ত রায়ের সময়োপযোগী চিকিৎসা ও নিবেদিত পরিচর্যা তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা ও জীবনের নতুন দিশা দেখিয়েছে।
সেশনের শেষ পর্বে প্রতিরোধমূলক স্নায়ু-পরীক্ষা, ঝুঁকিভিত্তিক কিডনি মূল্যায়ন এবং মণিপাল হাসপাতালের মাল্টিডিসিপ্লিনারি পরিষেবাগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সুবিধাযুক্ত মিডিয়া প্রিভিলেজ কার্ড-এরও উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে সেই হেল্থ কার্ড উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।






