SCROLL

৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে প্রয়াত হলেন সুরের দুনিয়ার কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে # বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বছরে দু'বার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চালু করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। # পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১১ জন পদ্ম সম্মানে ভূষিত # একদিনের ক্রিকেটে পুরুষদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় দলের মেয়েরা # দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী # প্যারিস অলিম্পিকে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন মনু ভাকের # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # ভূমিকম্পের এ্যালার্ট দেবে "ভূদেব" অ্যাপ, আই আই টি'র বিজ্ঞানীদের বিরাট সাফল্য

কাঞ্চননগরে তৃপ্তিময়ের মাতৃপূজা আগামীতে বিশ্ব পরিবেশবান্ধব উৎসবেরই বার্তা দেবে


 

কাঞ্চননগরে তৃপ্তিময়ের মাতৃপূজা আগামীতে বিশ্ব পরিবেশবান্ধব উৎসবেরই বার্তা দেবে


Bengal Times News, 1 October 2025

বেঙ্গল টাইমস নিউজ : বর্ধমানের প্রাচীনতম জনপদ দামোদরের পাশে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রাক্তন ছাত্র তৃপ্তিময় ঘোষ বিগত ১০ বছর ধরে নিজের হাতে পারিবারিক দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে নিজেই পুজো করে বর্ধমানবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। এই ঘটনার এলাকাবাসী অত্যন্ত গর্বিত, আনন্দিত ও পুলকিত। তার এই প্রতিভা আরো বিকশিত হোক এবং তার সৌরভ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক। যাতে, "দেবী দুর্গা আমাদের শুধু লৌকিক দেবতাই নয় সমগ্র জাতির মা, যিনি এক ধারে নিজের সংসারকে রক্ষা করছেন অন্যদিকে সমগ্র পৃথিবীকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাচ্ছেন"। মানুষ ও প্রাণীকুল অর্থাৎ জীব বৈচিত্রের ইকোলজি প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করছেন। 

ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত, শিক্ষা রত্ন ও জাতীয় শিক্ষক ও মেন্টর, প্রধান শিক্ষক, কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়, মনে করেন মাতৃরূপী নারী শক্তি যে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে তার আইকন হচ্ছেন আমাদের আরধ্যা পরিবেশ বান্ধব দেবী দুর্গা দশভূজা। ১৯০৩ সালে কাঞ্চননগরে আশিটির বেশি দুর্গাপুজো হতো, এবং স্কুলেও দুর্গা পুজোর জন্য এক মাস ছুটি থাকত। এই আশিটি দুর্গা পুজোয় এলাকার অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা ও এলাকার কৃষ্টি সংস্কৃতি আভিজাত্য ঐতিহ্য এর ধারক বাহক হিসাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বারবার দামোদরের ভয়াল বন্যাকে উপেক্ষা করে।

কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর কীর্তিমান প্রাক্তন ছাত্র তৃপ্তিময় ঘোষ এবং বর্তমানে কলেজে ইতিহাস অনার্স এর ছাত্রের কর্মকাণ্ড নিদর্শন কলেজ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সাথে সাথে এলাকার আভিজাত্যকে তুলে ধরেছে। তাদেরই পূর্বপুরুষ শ্রীযুক্ত নলিণাক্ষ ঘোষ মহাশয়, বিদ্যালয়ের প্রথম ট্রাস্টির নয় জন সদস্যের মধ্যে শুধু একজনই ছিলেন তাই নয়, তিনি সেই সময় ব্রিটিশ আমলে দীননাথ দাস মিডিল ইংলিশ স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করেন, এবং সেই সময়ের বিদ্যালয়ের দুর্গাপুজোর সমস্ত দায়-দায়িত্ব প্রথম ডাক্তার ভূতনাথ দাস এর সঙ্গে ভাগ করে পরিচালনা করতেন এবং তাদের প্রাচীন বাড়ি বহরমপুর দুর্গাপুজো হতো। আমরা বিদ্যালয়ের তরফ থেকে তৃপ্তিময় ঘোষ ও তার পরিবারকে অসংখ্য শুভেচ্ছা বুক ভরা ভালবাসা জানাচ্ছি ও তার উদ্ভাবন শক্তি আরও বিকশিত ও প্রসারিত হোক এই কামনা করছি। 

তৃপ্তিময় জানিয়েছে, আমি এই পূজা প্রথম শুরু করি শুধু দুর্গা মূর্তি দিয়ে । তারপর বিগত ১০ বছর ধরে, আমি এই প্রতিমা তৈরি করি। আমি কোনো শিল্পীর কাছে প্রতিমা তৈরি শিখিনি। আমার এই প্রতিমা তৈরিতে সাহায্য করেন আমার মা। এই পূজা তে সেইরকম কোনো উপকরণ লাগে না। আমি মনে করি যে মা কে পূজা করতে কোনো কিছু লাগে না শুধু যেটা লাগে সেটা হল ভক্তি ও ভালোবাসা এবং পরিবেশবান্ধব বৈষ্ণব রীতিতে পূজো হয়। আমার এই পূজার মূল আকর্ষণ হল নবমীর দিন আমি আমার মা কে পূজা করি। আমি প্রথম পূজা শুরু করি ২ বছর ৫ মাস বয়স থেকে। আমি আমার বাড়ি তে দুর্গা পূজা করি, ও এক বার আমি কালী পুজো করে ছিলাম। আমার পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না। পূজা করে আমি আত্মিক শক্তি সঞ্চয় করি যেটা পড়াশোনার কাজে লাগে। আমার বাবা এক জন ব্যবসায়ী আর আমার দাদু স্কুলের ট্রাস্ট বডির সদস্য ছিলেন ও দাদু র বাবা এই মিডিল ইংলিশ স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন। আমরা বর্তমানে থাকি তেলি পাড়া, কাঞ্চন নগর এ। আমি দুর্গা, কালী, সরস্বতী মূর্তিও বানাতে পারি। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে স্কুলের পূর্বে কঙ্কালেশ্বর কালী মন্দির এলাকা ও তেলিপাড়াটি লাট সাহেব পাড়া বলে খ্যাত ছিল। বিদ্যালয় এ দুর্গাপুজোর বা লক্ষ্মীপূজো বা ষষ্ঠীতে পুজোর পূজারী ছিলেন অভয়পদ ভট্টাচার্যের পরিবার যাদের আদি বাড়ি ছিল বনতীর সুপুর, চিন্ময় পদ ভট্টাচার্য ছিলেন শেষ পূজারী। তাই ব্রিটিশ আমলের স্কুল ও ডিসপেন্সারি শুধুমাত্র গরিবদের জন্য লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যের ধারক বাহক ছিল তাই নয়, পূজার মধ্য দিয়ে "বিদ্যালয় যে সামাজিক প্রতিষ্ঠান" এবং জীব বৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখার উত্তম পথপ্রদর্শক তা বারবার প্রমাণ করে। হয়তো সেই জন্যই এই 'ইকো ইস্কুলে' কৃত্রিম পাখির বাসা বিদ্যালয় এর আভিজাত্য ঐতিহ্য ও সামাজিকতাকে তুলে ধরেছে, এবং লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা কোভিড পরিস্থিতিতে সমগ্র কাঞ্চন নগর তথা বর্ধমানবাসীকে 'সোশ্যাল ভ্যাকসিন' হিসাবে কাজ করে প্যান্ডেমিকের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তথ্যসূত্র বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল যেখানে বলা হয়েছে "বার্ণ আউল অ্যাক্ট এজ এ সোশ্যাল ভ্যাকসিন অথবা পেঁচা বায়ো ইন্ডিকেটার হিসাবে কাজ করে পরিবেশে এবং মহামারী থেকে রক্ষা করে।" কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডঃ সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, এই পরিবেশ বান্ধব উপকরণ দিয়ে শুধু তৃপ্তিময় মূর্তি বানান তাই নয় এ পুজো বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ উপকরণ করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতেই পুজো হয়। তাই ডক্টর দত্ত মনে করেন বাঙালি শ্রেষ্ঠ দুর্গাপূজার সপ্তাহটিকে বিশ্ব পরিবেশ বান্ধব সপ্তাহ এবং সপ্তমীর দিনটিকে বিশ্ব পরিবেশ বান্ধব দিবস হিসাবে প্রতিপর্ণ হলে বাঙালির উৎসব বিশ্ব পরিবেশ বান্ধব উৎসবে পরিণত হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad