বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্ম দিবসে জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রাম বাগডুবি কে দত্তক নিলো বাঁকুড়া জেলা পুলিশ
Bengal Times News, 26 September 2026
সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : বিদ্যাসাগরের ২০৭ তম জন্ম দিবসে জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রাম বাগডুবি কে দত্তক নিলো বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। জঙ্গলমহলের বারিকুল থানার বারিকুল গ্রাম পঞ্চায়েতের জঙ্গল ঘেরা প্রত্যন্ত এলাকার একটি গ্রাম বাগডুবি । জঙ্গলমহল এলাকার অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করেই এই গ্রামটি সহ বারিকুল থানা এলাকা একদা মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। এই বাগডুবি গ্রামের বাগডুবি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত্রিতে মাওবাদীদের সাথে সিআরপিএফ এর গুলি বিনিময়ে বিনোদ রাই নামে একজন সিআরপিএফ কর্মী শহীদ হন। এই এলাকা তখন ছিল দুর্ভেদ্য এলাকা। মানুষজনের মধ্যে সারাক্ষণ আতঙ্ক ছিল। দিন রাত্রি গোলাগুলির শব্দ ও ভারী বুটের আওয়াজ। আজ দিন পাল্টেছে। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর অনেক মাওবাদী নেতা-নেত্রী আত্মসমর্পণ করেছেন ফলে এলাকা শান্ত হয়েছে,আতঙ্ক কেটেছে। এলাকার উন্নয়ন এগিয়ে চলেছে।সেই বাগডুবি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আজ শনিবার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাঁকুড়া জেলা পুলিশ।
সেবা সংকল্প অভিযানের অঙ্গ হিসেবে আজ ২৬ শে সেপ্টেম্বর বাংলার পথিকৃৎ পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শুভ জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ণমন্ত্রী তথা রানীবাঁধ বিধানসভার বিধায়ক সর্বোপরি এই বাগডুবি গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদিরাম টুডুর উপস্থিতিতে এই গ্রামকেই বাঁকুড়া জেলা পুলিশ দত্তক নিল। এই গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই দত্তক গ্রহণ বলে জেলা পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ পাশুমার্থি জানান । এই গ্রাম দত্তক নেওয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপার পিভি জি সতীশ, খাতড়া, মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য, রানীবাঁধ ব্লকের বিডিও পার্থসারথি কীর্তনীয়া, বারিকুল থানার আইসি সহ বিশিষ্ট অতিথি বৃন্দ। এখানে উল্লেখ্য শাল মহুয়ার জঙ্গলের ভিতরে প্রত্যন্ত গ্রাম, কাঁচা পাকা রাস্তা, পানীয় জলের সমস্যা, এমনকি নেই মোবাইলের সিগন্যালও। এমনই বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকার বাগডুবি গ্রাম। উল্লেখ্য বারিকুল পঞ্চায়েতের এই গ্রামে রয়েছে ১০৭টি পরিবার। সকলেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। বারিকুল হাই স্কুল ও ছ্যাঁদা পাথর হাই স্কুলে জঙ্গলের রাস্তায় পড়তে যায় গ্রামের শিক্ষার্থীরা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বর্ষায় রাস্তার দুরবস্থায় অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। গরমে দেখা দেয় পানীয় জলের সংকট। অনেক দূর থেকে পানীয় জল মাথায় করে বয়ে নিয়ে আসতে হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সমস্যায় পড়েন গ্রামবাসী সহ পড়ুয়ারাও। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগেও এই গ্রামে ঠিকমত নেই মোবাইল পরিষেবা।তবে পুলিশ গ্রামটিকে দত্তক নেওয়াতে গ্রামবাসীরা কিছুটা আশার আলো দেখছেন।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গ্রামের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যুবকদের পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেমন গ্রামবাসীরা পায় সেদিকে পুলিশের ধারাবাহিক নজর থাকবে।
মন্ত্রীর নিজের গ্রাম বলেই কি বাগডুবিকে দত্তক নেওয়া? উঠছে প্রশ্ন। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনের সমীক্ষায় পিছিয়ে থাকা গ্রাম হিসেবেই বাগডুবিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে গ্রামটিকে মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে বলেও মন্ত্রী জানান। এখানে উল্লেখ্য প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তৎকালীন সভাপতি ডঃ রিঙ্কু ব্যানার্জির উদ্যোগে এই বিদ্যালয়ের শিশুদের নিয়ে গত ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বই খাতা কলম দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছিল।






