রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পালিত হলো বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি
Bengal Times News, 12 August 2026
লুতুব আলি, কলকাতা : ঐতিহ্যের আঙিনায় দেশপ্রেমের সুর। ১২ আগস্ট কলকাতার ঐতিহ্যপূর্ণ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রথীন্দ্র মঞ্চে ইন্দো-বাংলা খোলা জানালার উদ্যোগে পালিত হল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "বন্দেমাতরম" সঙ্গীতের ১৫০ বছর পূর্তি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে বন্দেমাতরম গাওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবারের সদস্যরাও। জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন বলে জানান উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডঃ চন্দ্র চূড় গোস্বামী, সত্যকাম বাগচী, সুনীল বনিক, জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু গুণীজন। সকলেই বন্দেমাতরমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
ইন্দো-বাংলা খোলা জানালার কর্ণধার ডঃ দীপা দাসের হাতে জাতীয় পতাকা ও বঙ্কিম রচনাসমগ্র তুলে দেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী "গাছ কাকু" চন্দ্রনাথ বসু। তিনি বলেন, "আমি প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বন্দেমাতরম বলে আসছি। প্রতিদিন সকালে উঠে প্রথমে এই মন্ত্র উচ্চারণ করি। এটা বলতে পেরে আমি গর্বিত। যারা আজও বন্দেমাতরম বলতে দ্বিধা করেন তাদের বলব, এই শব্দটার জন্যই অসংখ্য মানুষ হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন। এই বন্দেমাতরম ধ্বনিই আমাদের দেশকে স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে। বন্দেমাতরম শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি মায়ের আরাধনা, এটি দেশের প্রতি ভালোবাসা। আপনি একবার মন থেকে বলুন, দেখবেন শরীরে আলাদা শক্তি আসবে, মনে আনন্দ পাবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে রোজ বন্দেমাতরম বলি।"
অনুষ্ঠান শেষে সকলে মিলে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেশের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


