রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চের উদ্যোগে যথোচিত মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন
Bengal Times News, 20 June 2026
বেঙ্গল টাইমস নিউজ, বর্ধমান : রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চ ও বর্ধমান হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে যথোচিত মর্যাদায় পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন বর্ধমান রাজগঞ্জে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বিশ্বরূপ চক্রবর্তীর কন্ঠে বন্দেমাতরম সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
স্বাগত ভাষণে রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চের পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রমুখ ইতিহাসবিদ ড. সর্বজিৎ যশ বলেন, গত ৪৯ বছর ধরে দেশের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বারবার আক্রমণ চললেও হিন্দু সমাজ কোনদিনই একজোট হতে পারেনি। এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সেই সুযোগ এসেছে। এ সুযোগ হারালে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালি কে আগামী দিনে আর একবার উদ্বাস্তু হতে হবে। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিন্দু নিধন যজ্ঞ ও পূর্ববঙ্গের নোয়াখালির মর্মান্তিক হিন্দু গণহত্যার কথা মনে করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের জনক ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন সমাজকর্মী ও শিক্ষক তাপস কুমার পাল। ভারতমাতার ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রভাত ঘোষ।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা। তিনি হিন্দু জাতির স্বার্থে ড.শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ নামে রাজ্যের অস্তিত্বই থাকতো না।
অভিজিৎ তা বলেন, আমরা সাধারণভাবে বলি ভারত ভাগ হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে ভারত ভাগ হয়নি, ভাগ হয়েছিল বঙ্গ প্রদেশ এবং পাঞ্জাব। আজ যে তৎকালীন বঙ্গ প্রদেশের একটি অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তার প্রধান কারণ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবিরাম সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা। তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সংগ্রামকে কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্ট কিংবা তৃণমূল—কেউই সাধারণ মানুষের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছিল। আগের টিএমসি সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এই বর্ধমান শহরে ড.শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি বসানো জন্য এক টুকরো জায়গা দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিজেপি জেলা কার্যালয়ের সামনে আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করেছি। গত দশ বছর ধরে আমরা বর্ধমানে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে আসছি। বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা আরও বলেন, বর্ধমান শহরের একটি রাস্তা শীঘ্রই ভারত কেশরীর নামে করা হবে। তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিও প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বর্ধমান রাজ কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিরঞ্জন মন্ডল বলেন, হিন্দু ধর্ম একটি মহান ধর্ম। তিনি হিন্দু ধর্মের সাকার ও নিরাকার তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
বর্ধমান হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে অত্যন্ত গৌরবের একটি দিন। রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই দিনটি পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাবিদ্যালয় সমূহের পরিদর্শক ড. ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, মানুষকে ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে যা কোনমতেই কাম্য নয়। কিন্তু গত ৪৯ বছর ধরে সেটাই এ রাজ্যে হয়ে এসেছে। এখন সময় এসেছে প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে তুলে ধরার সেদিক থেকে দেখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন সেই উদ্দেশ্যকেই সাধিত করছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনাদর্শ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য সূচারু রূপে তুলে ধরেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের বর্ধমান নগর সভাপতি আশীষ মজুমদার, অধ্যাপক ড. সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক ড. বিমলানন্দ থাণ্ডার, অধ্যাপক ড.অর্ধেন্দু সরকার, বিশিষ্ট চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ সুমিত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। কবিতা পাঠ করেন শিবশঙ্কর মণ্ডল ও সপ্ততীর্থা মণ্ডল।
উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং অ্যাডভোকেট রমেশ কুমার সিং, ডাঃ প্রণব ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট উদ্যোগপতি ও সমাজকর্মী বিশ্বনাথ ঘর, সুব্রত মণ্ডল সহ অন্যান্যরা। উল্লেখ্য এদিনের সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, সমন্বয় ও সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চের পূর্ব বর্ধমান জেলা শাখার সহ-সম্পাদক তথা সমাজকর্মী ও সাংবাদিক শান্তনু পাঁজা। তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, নিরলস পরিশ্রম এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানের ফলেই অতি অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এত বড়, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশিষ্টজনেরা মত প্রকাশ করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রীয় লেখক মঞ্চের পূর্ব বর্ধমান শাখার সভাপতি সাংবাদিক প্রবীর চট্টোপাধ্যায়
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও অভিনেতা অনির্বাণ বিশ্বাস ও সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
অনুষ্ঠান শেষে হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যুইজ প্রতিযোগিতা হয় ধনঞ্জয় চক্রবর্তীর পরিচালনায়। স্থানাধিকারি ও অংশ গ্রহণকারীদের শংসাপত্র প্রদান করা হয়।
জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।










