SCROLL

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী # বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ে ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ, উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা # ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে প্রয়াত হলেন সুরের দুনিয়ার কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে # বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বছরে দু'বার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চালু করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। # পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১১ জন পদ্ম সম্মানে ভূষিত # একদিনের ক্রিকেটে পুরুষদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় দলের মেয়েরা # দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী # প্যারিস অলিম্পিকে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন মনু ভাকের # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # ভূমিকম্পের এ্যালার্ট দেবে "ভূদেব" অ্যাপ, আই আই টি'র বিজ্ঞানীদের বিরাট সাফল্য

Traditional handicrafts অন্ধকার থেকে আলোর বৃত্তে : বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করল পূর্ব রেল


 

Traditional handicrafts 

অন্ধকার থেকে আলোর বৃত্তে : বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করল পূর্ব রেল


Bengal Times News, 23 May 2026

বেঙ্গল টাইমস নিউজ, কলকাতা : বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের শান্ত, ধূলিধূসরিত গলিতে মাটির ওপর হাতের ছন্দময় চাপই ছিল ময়না বারুইয়ের (নাম পরিবর্তিত) পরিবারের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জীবনস্পন্দন। শৈশব থেকেই তাঁর আঙুলগুলো মাটির সাথে খেলা করত, ঠিক তাঁর পূর্বপুরুষদের মতোই ফুটিয়ে তুলত প্রাণবন্ত মাটির পুতুল। এই পুতুল তৈরি করা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম ছিল না—এটি ছিল তাদের বেঁচে থাকারই নামান্তর। কিন্তু বিশ্ব যত আধুনিক এবং দ্রুতগতির হয়ে উঠল, ভিড় ততই কমতে থাকল, মানুষ এই শিল্পকে ভুলে গেল এবং ময়নার সমাজ তাদের এই ঐতিহ্য বিলুপ্তির মুখে দেখে সমস্ত আশা হারিয়ে ফেলল। ঠিক যখন এই অন্ধকার স্থায়ী বলে মনে হচ্ছিল, তখনই 'ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট' (OSOP) স্টলটি আশার এক উজ্জ্বল আলোকরশ্মি হিসেবে আবির্ভূত হলো। এটি শুধু ময়নার জন্যই নয়, কয়েক জেলা দূরের শ্যাম দাস (নাম পরিবর্তিত) এবং তাঁর পরিবারের জন্যও নতুন জীবন নিয়ে এল। শ্যামের পরিবার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ির সূক্ষ্ম বুননকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এমনই এক নীরব লড়াই লড়ছিল। আজ, রেলওয়ের এই রূপান্তরমূলক উদ্যোগ উভয় পরিবারকেই তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য একটি বিশ্বমঞ্চ এনে দিয়েছে, যা এক চরম অস্তিত্বের লড়াইয়ের গল্পকে এক গৌরবময় পুনরুজ্জীবনের কাহিনিতে পরিণত করেছে।

'ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট' (OSOP) প্রকল্পটি ভারত সরকারের রেল মন্ত্রকের অধীনে শুরু করা একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি এই OSOP-এর লক্ষ্য হলো স্থানীয় কারিগর, তাঁতি, শিল্পী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে একটি নিবেদিত বিপণন প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চ প্রদান করা। জনাকীর্ণ রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে প্রচারের কেন্দ্রে পরিণত করে, এই প্রকল্পটি প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর সামনে অনন্য দেশীয় পণ্যগুলিকে তুলে ধরছে, যা বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকলাকে তাদের প্রাপ্য পরিচিতি নিশ্চিত করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো 'ভোকাল ফর লোকাল' (Vocal for Local) দর্শনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, প্রান্তিক কারিগরদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করা এবং ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করা। এটি সফল করতে, স্টল বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সুলভ রাখা হয়েছে যাতে গ্রামীণ কারিগররাও এর সুফল পেতে পারেন। স্টেশনগুলি স্থানীয় কারিগর, তাঁতি এবং নিবন্ধিত এনজিও (NGO) বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করে এবং একটি নামমাত্র ফির বিনিময়ে স্বচ্ছ লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে আবর্তনীয় (rotational) ভিত্তিতে স্টলগুলি বরাদ্দ করা হয়, যা প্রতিটি স্থানীয় কারিগরের নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করে।

স্থানীয় কারিগররা কোনো তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন, যা নিশ্চিত করে যে রাজস্ব এবং লাভের ১০০% সরাসরি কারিগরদের পকেটে যাবে।

পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের সহানুভূতিশীল এবং দূরদর্শী নেতৃত্বে, এই জোনটি তার প্রধান এবং শহরতলীর স্টেশনগুলিকে ঐতিহ্যের জীবন্ত গ্যালারিতে রূপান্তরিত করেছে। পূর্ব রেল কেবল জায়গাই করে দিচ্ছে না; এই গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের এমন এক বিশাল জনসমাগমের সুযোগ করে দিয়ে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে, যা অন্যথায় তাদের নাগালের বাইরে থাকত। এই সুন্দরভাবে ডিজাইন করা স্টলগুলি স্থাপনের মাধ্যমে পূর্ব রেল ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম এবং মূলধারার বাজারের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করছে। এটি স্থানীয় শিল্পকলার আত্মাকে রক্ষা করছে এবং সেই পরিবারগুলির অর্থনৈতিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিচ্ছে যারা শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্যগুলিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

পূর্ব রেলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীরা বিভিন্ন ডিভিশন জুড়ে স্থানীয় বৈশিষ্ট্যের এক চমৎকার সমাহার প্রত্যক্ষ করতে পারেন। এই বিশেষ স্টলগুলিতে অনন্য সব সামগ্রী প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা মাটির পুতুল ও মৃৎশিল্প, সূক্ষ্ম হাতে বোনা তাঁত ও হ্যান্ডলুম শাড়ি এবং সুন্দর বাটিক ডিজাইনের বিশ্বখ্যাত শান্তিনিকেতনী চামড়ার জিনিসপত্র। যাত্রীরা গ্রামীণ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির দ্বারা তৈরি জটিল কাঁথাস্টিচের শিল্পকর্ম কিনতে পারেন, অথবা সরাসরি স্টেশনেই বর্ধমানের খাঁটি সীতাভোগ ও মিহিদানার মতো বিখ্যাত মিষ্টির স্বাদ উপভোগ করতে পারেন।

এই উদ্যোগের গভীর প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি বলেন যে, OSOP স্টলগুলি কেবল বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং এগুলি প্রকৃতপক্ষে স্টেশনগুলির হৃদস্পন্দন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় রেল সবসময়ই দেশের জীবনরেখা (lifeline) হিসেবে কাজ করেছে এবং OSOP-এর মাধ্যমে এটি দেশের সেরা অথচ সবচেয়ে অসহায় কারিগতদের জীবনরেখা হয়ে উঠতে পেরে গর্বিত। তিনি পুনরুল্লেখ করেন যে, পূর্ব রেল স্থানীয় প্রতিভাকে লালন করতে, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক শিকড়কে উদযাপন করতে এবং বাংলা ও তার বাইরের এই চমৎকার শিল্পকলা যাতে ভবিষ্যতেও সমৃদ্ধ থাকে এবং আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad