SCROLL

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী # বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ জয়ে ব্রিগেডে ঐতিহাসিক শপথ, উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা # ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে প্রয়াত হলেন সুরের দুনিয়ার কিংবদন্তি আশা ভোঁসলে # বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন # আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের খেতাব জয় করলেন চিত্রপরিচালক অনুপর্ণা রায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর শুভেচ্ছা। # ভারতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে বছরে দু'বার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চালু করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। # পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১১ জন পদ্ম সম্মানে ভূষিত # একদিনের ক্রিকেটে পুরুষদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় দলের মেয়েরা # দাদাসাহেব ফালকে' সম্মানে ভূষিত হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী # প্যারিস অলিম্পিকে জোড়া পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন মনু ভাকের # আঠারো তম লোকসভা ভোটের ফলাফল : মোট আসন ৫৪৩টি। NDA - 292, INDIA - 234, Others : 17 # ভূমিকম্পের এ্যালার্ট দেবে "ভূদেব" অ্যাপ, আই আই টি'র বিজ্ঞানীদের বিরাট সাফল্য

ঐতিহাসিক ১৭ মে : আশার ফেরা, অন্ধকারের অবসান


 

ঐতিহাসিক ১৭ মে : আশার ফেরা, অন্ধকারের অবসান

Nayan Biswas Roki
Bengal Times News, 16 May 2026

নয়ন বিশ্বাস রকি

◾সেই দিন, সেই সাল

১৭ মে ১৯৮১ — এই তারিখটা শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা না, এটা বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘোরানো একটা দিন। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, বিদেশে থাকায় বেঁচে যান তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শুরু হয় দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসন জীবন। 

১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে অনুপস্থিতেই শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু আর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি ফিরে আসেন ১৭ মে ১৯৮১, বিকাল সাড়ে ৪টায়। 

◾ জনসমুদ্রে ভাসা ঢাকা

সেদিন ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। ঝড়-বৃষ্টি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াও লাখ লাখ মানুষকে আটকাতে পারেনি। 

কুর্মিটোলা বিমানবন্দর আর শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। আকাশ-বাতাস কাঁপছিল একটাই ধ্বনিতে: “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”। 

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে নেমে আসেন। জনতার স্রোত ঠেলে ট্রাকে উঠতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন:

_“সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি… জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই”। 

◾ আবেগ : ফেরাটা শুধু ব্যক্তির না, আদর্শের

এটা শুধু শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল না। এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রত্যাবর্তন।

১৫ আগস্টের পর বাঙালি জাতির ওপর নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা চলছিল। 

ঠিক সেই ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার ফেরা ছিল একটা আলোর রেখা। জনতা বলছিল, “হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব”। সেটা ছিল প্রতিশোধের কথা না, ছিল ন্যায়বিচার আর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার শপথ। 

◾ বিশ্লেষণ : ১৭ মে-র ঐতিহাসিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পুনর্জন্ম: আওয়ামী লীগ যখন দিশাহারা, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দলকে সংগঠিত করে।

গণতন্ত্রের লড়াই: সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কেন্দ্রবিন্দু হন তিনি।

নারী নেতৃত্বের উদাহরণ: পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠে একজন নারী হিসেবে তিনি সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

আজকের বাংলাদেশ, ৪ বছর পর আজকের উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন — এই সবের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেই ১৭ মে-র সিদ্ধান্তে। 

◾আজকের প্রজন্মের কাছে বার্তা

আমি সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে বলতে পারি, ১৭ মে শুধু স্মরণ করার দিন না। এটা শেখার দিন।

শিখতে হবে কিভাবে বিপদে অবিচল থাকতে হয়, কিভাবে জনগণের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়।

দেশরত্ন, মানবতার মা শেখ হাসিনা ফিরে না এলে হয়তো আজকের বাংলাদেশের গল্পটা অন্যরকম হতো।

১৭ মে ১৯৮১ — সেদিন শুধু একজন নেত্রী ফেরেননি, ফিরেছিল আশা, ফিরেছিল বাংলাদেশ।

            লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad