দুধ ও মাংস শিল্পের মধ্যে থাকা অদৃশ্য সম্পর্ক নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতে পথে নামলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশন
Bengal Times News, 1 February 2026
বেঙ্গল টাইমস নিউজ, বর্ধমান : সম্প্রতি এক অভিনেতা ও এক পাব নিয়ে গোমাংস কেন্দ্রীক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সে সময় পথে নামল এক পশুপ্রেমী ও পরিবেশ জলবায়ু নিয়ে কাজ করা সংগঠন, তাদের মতে দীর্ঘদিন ধরেই গরু ও মহিষের উপর নির্যাতন চলছে সম্প্রদায়ভেদে, ভারত দুধ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে, আবার একই সঙ্গে গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানিতেও অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই দ্বৈত বাস্তবতা নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের মনে জাগছে প্রশ্ন। প্রজাতন্ত্র সপ্তাহ উপলক্ষে সারা দেশজুড়ে চলা একটি সচেতনতা অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ধমান-সহ ভারতের এক ডজনেরও বেশি শহরে তরুণ-তরুণীরা দুধ ও মাংস শিল্পের মধ্যে থাকা অদৃশ্য সম্পর্কটি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশনের তরফে বর্ধমান রেলস্টেশন ও বিজয়তোরণের সামনে একটি তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা প্রদর্শনী আয়োজন করে, যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারত বৃহত্তম দুধ উৎপাদক দেশ হিসাবে বছরে প্রায় ২৩ কোটি টনেরও বেশি দুধ উৎপাদন করে । একই সঙ্গে ভারত প্রতিবছর ১৩ লক্ষ টনের বেশি গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি করে বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলির মধ্যে একটি। উদ্যোক্তাদের তরফে পার্থপ্রতিম মিত্র, নম্রতা দাস জানান "যে শিল্প নিয়মিত দুধ উৎপাদন করে, সেই একই শিল্পব্যবস্থার মধ্য দিয়েই পশুরা শেষ পর্যন্ত মাংস শিল্পে প্রবেশ করে। দুধ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে বা লাভজনক না থাকলে গরু ও মহিষ বিক্রি করে দেওয়া হয়, তা পরিত্যক্ত হয় যা মাংসের জন্য পাঠানো হয়। দুধ আমাদের দৈনন্দিন জীবন, পুষ্টি এবং গ্রামীণ জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিন্তু বড় পরিসরে ডেয়ারী শিল্প কীভাবে কাজ করে, তা অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। পশুদের বারবার গর্ভধারণ করানো হয়, বাচ্চাদের জন্মের পরেই আলাদা করে দেওয়া হয়, তাদের নিজেদের মায়ের দুধ তাদেরই খেতে না দেওয়া এবং দুধের পরিমাণ কমে গেলে তাদের মাংসের জন্য মেরে দেওয়া এটাই হয়ে আসছে, শহরাঞ্চলের মানুষের কাছে দৃশ্যমান চিত্র হলো রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গরু—আহত, অপুষ্ট, অথবা প্লাস্টিক খেতে বাধ্য হওয়া গরু, এই দৃশ্য এখন খুবই পরিচিত। আমরা প্রায় প্রতিদিনই এলাকায় রাস্তায় গরু দেখতে পাই বাড়ির সামনে বা ব্যস্ত রাস্তার মোড়ে। অনেকেই জানেন না, এদের অনেকেই আশপাশের ডেয়ারী থেকে আসে, যখন তারা আর দুধ দিতে পারে না। এই বাস্তবতা বোঝার জন্য ‘মা কা দুধ’ ডকুমেন্টারিটিতে দেখা যেতে পারে" ; এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে ভারতের দুধের সঙ্গে মাংসের সম্পর্ক মোটেও নিরপেক্ষ নয়, সহানুভূতিশীলও নয়, এবং এটি সম্পূর্ণভাবে নিষ্টুরতা বিরোধীও নয়। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে এবং পরিবর্তনের ক্ষমতা আমাদের হাতেই রয়েছে। নৈতিকভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, ডেয়ারী শিল্প পশুদের জন্য কতটা কষ্টকর। সচেতনতা বাড়ানোই প্রথম ধাপ, যাতে মানুষ নিজের খাদ্যাভ্যাস ও ভোগের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে পারে। পুনে, ব্যাঙ্গালোর, জয়পুর, ভোপাল, আমেদাবাদ -সহ দেশের আরও নানা শহরে ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় একই ধরনের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য তথ্যের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। শুধু ধর্মের দোহাই নয় বরং পশুদের প্রতি সহনশীল হয়ে গভীরে ভাবা।


