বাংলার সমুদ্র সৈকতে অসম - বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলন
Bengal Times News, 13 November 2025
লুতুব আলি, দীঘা : সমুদ্র সৈকত দীঘায় অনুষ্ঠিত হল এক অনন্য সাহিত্য সংস্কৃতি উৎসব। এই উৎসবের পোশাকি নামকরণ করা হয় অসম - বঙ্গ মৈত্রী সম্মেলন। দুই রাজ্যের সাহিত্য সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য মেল বন্ধন ঘটাতে হাওড়া জেলার সাহিত্য পত্রিকা অপু দূর্গা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানের নান্দনিক সূচনা পর্বে স্বাগত ভাষণ দেন অপু দূর্গা পত্রিকার সম্পাদক চৈতালি দাস মজুমদার। চৈতালি দাস মজুমদার বলেন, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য বাংলা ও অসমের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, দুই রাজ্যের সংস্কৃতির আদান-প্রদান ঘটানো এবং নবীন লেখকদের একত্রিত করে এক বন্ধুত্বপূর্ণ সাহিত্য মঞ্চ তৈরি করা। এই বর্ণময় অনুষ্ঠানে দুই রাজ্যের প্রতিনিধিরা একে অপরকে উত্তরীয় ও গামছা দিয়ে বরণ করে নেন। দৃষ্টিনন্দন এই অধ্যায়টি ছিল নজর কাড়া। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে দুই রাজ্যের সাহিত্যিকরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এবং দুই রাজ্যের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরেন। পরবর্তী পর্যায়ে শুরু হয় কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন রত্না মিত্র, মিতা সিনহা পুরকায়স্থ সহ আরো অনেকে। প্রত্যেকের কবিতায় উঠে আসে প্রকৃতি, প্রেম, সমাজ ও মানুষের জীবনের নানা অনুষঙ্গ। অসম থেকে প্রায় ১০০ জন শিল্পী একযোগে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক কবি সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীরা যোগদান করেন। অসমের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক মহানন্দ সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও ছড়াকার বকুল বৈরাগী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক দিলীপ রায়। সভাপতিত্ব করেন মহানন্দ সরকার দত্ত। বিশেষ আলোচক ছিলেন কবি সাহিত্যিক সমুদ্র বিশ্বাস। এই অনুষ্ঠানে বর্ধমানের বহুমুখী শিল্পী স্বপন দত্ত বাউলকে বিশেষ সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান থেকে পশ্চিমবাংলার সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে যে সমস্ত দিকগুলি উঠে আসে সেগুলি হল অষ্টাদশ শতাব্দীতে সাহিত্যের ইতিহাসের সূচনা হয় বলে ধরা হয়। ১৮৭৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা এবং ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয়। উইলিয়াম কেরি, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত সাহিত্যিকরা বাংলা সাহিত্য কে সমৃদ্ধ করেন। উনিশ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণ ঘটে এবং বিংশ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্য বিশ্বের দরবারে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে অসমের সাহিত্য সংস্কৃতি খুবই সমৃদ্ধ। অসমীয়া সাহিত্যের ইতিহাস প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। অসমীয়া ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ হল চর্যাপদ। অসমের সংস্কৃতিতে বিহু উৎসবের গুরুত্ব অনেক। অসমের লোকসংগীত এবং নৃত্যশৈলী খুবই জনপ্রিয়। অসমের ঐতিহ্যবাহী মাহ হুঁরত উৎসবও খুবই বিখ্যাত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা দাস। অনুষ্ঠানের জুবিন গর্গ কে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে যাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা এনে দেয় তাঁরা হলেন প্রকাশক নিগমানন্দ মণ্ডল, কোভিদ মজুমদার, কবি কৃষ্ণেন্দু সেন, সুদেষ্ণা বোস, রীনা দাস, সুতপা মাপারু, অঙ্কিতা দাস, কবিপত্র লেখা ঘোষ, সমীর ভৌমিক, দেবপ্রসাদ মিত্র প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।


