বর্ধমানের দুর্গাপুজোয় বন্দে ভারত ট্রেনে ভূস্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণের আনন্দ
Bengal Times News, 8 October 2026
জগন্নাথ ভৌমিক, বর্ধমান : দুর্গাপুজো মানেই শুধু দেবীর আরাধনা নয়, পুজোর মণ্ডপে উঠে আসে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের নানা স্বপ্নের কাহিনী। সেই ভাবনাকেই এবার মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরছে সুভাষ অ্যাথলেটিক ক্লাব পরিচালিত অরবিন্দপল্লি সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এবারের পুজোর থিম— “বাহন বন্দে ভারত, ভূস্বর্গে মা”।
আয়োজকদের তরফে এমনটাই জানালেন অংকন গুহ। এবছর তাদের দুর্গোৎসব ৭৬তম বর্ষে। থিমের বিশেষ আকর্ষণ হলো—দর্শনার্থীদের জন্য বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের আদলে একটি ট্রেন তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিটার রেললাইন ও দুটি প্ল্যাটফর্ম থাকবে। ট্রেনে চড়ে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে পৌঁছবেন, যেখানে কাশ্মীরের ‘ভূস্বর্গ’-এর বরফে ঢাকা পরিবেশের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। এই থিম যার মস্তিষ্কপ্রসূত তিনি হলেন ক্লাবের সম্পাদক অরুনাভ ঘোষ।
অংকন আরও বলেন, থিমের মধ্য দিয়ে তাঁরা তুলে ধরতে চেয়েছেন সাধারণ মানুষের এক সুন্দর স্বপ্নকে। বিশেষতঃ শিশু এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু মানুষের কাছে বন্দে ভারত ট্রেনে চড়া কিংবা কাশ্মীরের অপরূপ সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখার সুযোগ এখনও অনেকটাই অধরা। সেই মানুষদের মনের ইচ্ছা, আনন্দ ও ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষাকেই এবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বাস্তবের কাছাকাছি করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
মণ্ডপের অদূরে দর্শকদের সামনে ধরা দেবে বন্দে ভারত ট্রেনের আবহ। সেই ট্রেনই যেন হয়ে উঠবে দেবী দুর্গার ‘বাহন’। আর সেই বাহনে চেপেই মা দুর্গার আগমন ঘটবে ‘ভূস্বর্গ’ কাশ্মীরে। বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ উপত্যকা, কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রেলযাত্রার অনুভূতিকে একসূত্রে গেঁথে তৈরি হচ্ছে এবারের ভাবনা। আর সব কিছু মাঝেই থাকছে সাবেকি প্রতিমাও।
আয়োজকদের বক্তব্য, দুর্গাপুজো সকলের। তাই সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষগুলির স্বপ্ন ও আনন্দকেও পুজোর সঙ্গে যুক্ত করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। যাঁরা হয়তো বাস্তবে বন্দে ভারত ট্রেনে চড়ে কাশ্মীর যেতে পারেননি, তাঁদের জন্য মণ্ডপেই তৈরি করা হচ্ছে সেই ভ্রমণের এক প্রতীকী অনুভূতি। পুজোর কয়েকটি দিন অন্তত তাঁরা যেন পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে সেই স্বপ্নের যাত্রায় সামিল হতে পারেন—থিমের মূল ভাবনা সেখানেই।
শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়, মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে দর্শকদের মনে এক ধরনের আবেগ ও আনন্দ তৈরি করার চেষ্টা রয়েছে এই ভাবনায়। ‘বন্দে ভারত’ আধুনিক ভারতের দ্রুতগতির রেলযাত্রার প্রতীক, আর কাশ্মীর ভারতীয়দের কাছে বহুদিনের আকর্ষণের এক অন্যতম গন্তব্য। এই দুইয়ের সঙ্গে দেবী দুর্গার আরাধনাকে যুক্ত করে অরবিন্দপল্লির পুজো এবার তৈরি করছে এক অভিনব কল্পজগৎ।
পুজো কমিটির আশা, “বাহন বন্দে ভারত, ভূস্বর্গে মা” থিম দর্শনার্থীদের শুধু মণ্ডপ দেখাবে না, তাঁদের নিয়ে যাবে একটি স্বপ্নের সফরে—যেখানে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ফুটে উঠবে বন্দে ভারত ট্রেনে কাশ্মীর ভ্রমণের আনন্দ।
দেবী দুর্গার আগমনের সঙ্গে তাই এবার অরবিন্দপল্লিতে যেন বার্তা একটাই—স্বপ্ন দেখার অধিকার সকলের, আর দুর্গাপুজো সেই স্বপ্নকে কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও ছুঁয়ে দেখার সুযোগ করে দিতে পারে।









