ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে চারাগাছ উপহার দিয়ে উদযাপন বাগনান ইস্টবেঙ্গল প্রেমী সংঘের
Bengal Times News, 1 August 2026
লুতুব আলি, হাওড়া : ১৯২০ সালের ১ আগস্ট। ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জাতীয়তাবাদী চেতনা আর ফুটবলকে ঘিরে জন্ম নিয়েছিল এক আবেগের নাম - ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আত্মপরিচয় ও লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা এই ক্লাব আজ ১০৬ বছরে পা দিল। দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তু জীবনের সংগ্রাম আর ফুটবল মাঠে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে লড়াই - সবকিছু মিলেই ইস্টবেঙ্গল শুধু একটি ক্লাব নয়, হয়ে উঠেছে বাংলার এক ঐতিহ্য।
এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করতে আজ বাগনান স্টেশন রোডে স্বামী বিবেকানন্দ মূর্তির পাদদেশে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করল বাগনান ইস্টবেঙ্গল প্রেমী সংঘ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে মাল্যদান করে। মাল্যদান করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল আবসার। এরপর ইস্টবেঙ্গল দলের পতাকা উত্তোলন করেন সংঘের চেয়ারম্যান প্রসূন রায়। জাতীয় পতাকা ও ক্লাব পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সুরেশ চন্দ্র চৌধুরী, নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী সহ সেই সময়ের উদ্যোক্তাদের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় ইস্টার্ন রেলওয়ের প্রাক্তন বিশিষ্ট খেলোয়াড় বিজয় পাল, প্রাক্তন খেলোয়াড় দেবানন্দ ঘোষ, তপন আঢ্য এবং অরুণ দাসকে। তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সংঘের আহ্বায়ক সন্দীপ ঘোষ।
প্রতিষ্ঠা দিবসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করতে পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে সকলের হাতে চারাগাছ উপহার দেন পরিবেশকর্মী তথা "গাছ কাকু" নামে পরিচিত চন্দ্রনাথ বসু। উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ভক্ত জয়ন্ত সিনহা, শেখ সাজাহান, অভিক নাগ, অর্ঘ মন্ডল ওরফে পাপাই, পরিবেশ কর্মী পৌলভি মিশ্র, গৌতম পাল সহ অগনিত ইস্টবেঙ্গল প্রেমী।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জন্মদিবসের কেক কাটা। কেক কাটেন বিশিষ্ট খেলোয়াড় বিজয় পাল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গৌরবময় ঐতিহ্য ও লড়াইয়ের ইতিহাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রসূন রায়। তিনি বলেন, ইস্টবেঙ্গল শুধু ফুটবল নয়, এটি বাঙালির আবেগ ও অস্মিতার নাম।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আহ্বায়ক সন্দীপ ঘোষ।



